ইমাম তেলাওয়াত শুরু করেছেন, “এবার শোন! যে বিষয়ের তুমি ধৈর্য্যধারণ করতে পারনি তার বর্ণনা”, তেলাওয়াত করছেন সূরা কাহফের মুসা ও খিজির (আ:) এর ঘটনা, কি সাবলীল, ঝরঝরে তেলাওয়াত, যেন ইমামের কণ্ঠে অন্য কেউ বলে যাচ্ছে হাজার বছরের দূর প্রান্ত হতে। একে একে দৃষ্ট্যপঠ পরিবর্তন হচ্ছে। মুসা, খিজির থেকে যুলকারনাইন হয়ে আল্লাহর সাক্ষাতের লোভ দেখিয়ে এবং সাক্ষাত লাভের জন্য কি করতে হবে তা বলে সূরা কাহফ শেষ করলেন প্রথম দুই রাকাতে।
দ্বিতীয় রাকাতে শুরু করলেন, যাকারিয়া (আ.) এর দোয়ার বর্ণনা দিয়ে, আল্লাহর কাছে কিভাবে প্রতিকুল ও বিপরীত সময়ে আকুলভাবে দোয়া করতে হয় তার যেন জ্বলন্ত সাক্ষ্য দিয়ে যাচ্ছেন জীবন্ত তেলাওয়াতের মাধ্যমে। তেলাওয়াতও যে জীবন্ত হয়, তা আবার উপলব্ধি করলাম। তবে শর্ত হচ্ছে সেই দরদ, সেই ভালবাসা যদি থাকে হৃদয়ে আর সমস্ত আগ্রহ যদি নিবিষ্ট হয় শ্রবণে। মাশাআল্লাহ।
চার রাকাত শেষে প্রথম সারি থেকে সম্মানিত একজন উঠে গিয়ে কিছুক্ষণ রমজানের মর্যাদার উপর আলোচনা করলেন। সবাই মন্ত্রমুগ্ধেরমত শ্রবণ করলেন। কোন আওয়াজ নেই, চারিদিকে পিনপতন নীরবতা বিরাজ করছে। আলোচক আরবী, ডেনিশ দুই ভাষায় আলোচনা পুনরাবৃত্তি করলেন।
আবার শুরু হলো তেলাওয়াত, এবার ভিন্ন ইমাম কিন্তু সুর অভিন্ন, হৃদয়ের তড়প ও মহব্বত সেই আগের মতই। কোন কমতি নেই ভালবাসায়। ধীরে ধীরে, শান্ত ও গুরুগম্ভীর স্বরে বলে যাচ্ছে আল্লাহর প্রিয় নবী ইবরাহীমের (আ.) কাহিনী। উনার বংশধর, ত্যাগ আরো আরো কত কি? এভাবেই চলছে কোরআনের মাসে কোরআনের সন্তরণ সকল মুমিনের হৃদয় থেকে হৃদয়ে যার শুরু হয়েছিল হেরার আলোয়।
#Aalborg_Denmark